চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল আফনান হাসান ইমরানকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের খবরকে ‘গুজব’ ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। তাদের দাবি, আফনানকে বহিষ্কারের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।
গতকাল রাতে কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘চট্টগ্রামে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জামায়াতের দুই নেতা বহিষ্কার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের উদ্যোগে মিছিলও হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, আফনান বা সংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে বহিষ্কারের কোনো সিদ্ধান্ত দল নেয়নি। প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন দাবি করে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবির বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার বক্তব্য দিয়ে নিউজ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নির্বাচিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনানের বিরুদ্ধে জামায়াতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। ছাত্রশিবির তার জনশক্তির বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ ধরনের সংবাদে জনশক্তিকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের আমির শিহাব উদ্দিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর আইডিতে দেওয়া প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান ও স্থানীয় সাইদুল জামায়াতের কোনো নেতা নন। আফনান ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের কোনো দায়িত্বশীলকে জামায়াত বহিষ্কার বা অব্যাহতি দিতে পারে না। তাঁদের বিষয়ে এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। সাইদুলকে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তির শরিয়াহবিরোধী ও সামাজিকবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায় জামায়াত গ্রহণ করে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্টদের সঠিক তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানান এই জামায়াত নেতা।
এ বিষয়ে আফনান হাসান ইমরান বলেন, তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নির্বাচিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক। তাঁকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বহিষ্কারের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
আফনান বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর দুটি ফোনই খোলা ছিল। একইভাবে মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের আমির শিহাব উদ্দিন ও উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবিরের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ তাঁরা এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আফনান আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ ‘অপসাংবাদিকতা’। তিনি এ ধরনের অপসাংবাদিকতার অবসান চান।
বহিষ্কারের গুজবকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গতকাল রাতে ছাত্রদলের মিছিলের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন আফনান।
একটি পোস্টে তিনি ওই ঘটনায় ছাত্রদলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং গুজব নিয়ে ব্যস্ত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে আফনান আরও লিখেছেন, চলমান গুজব অনুযায়ী বিএনপির সঙ্গে মিলে চাঁদাবাজির কারণে তাঁকে জামায়াত বহিষ্কার করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির সঙ্গে মিলে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকলে ছাত্রদল তাঁর বিরুদ্ধে মিছিল করল কেন? এটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সাবেক মিরসরাই উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রশিবিরের কলেজবিষয়ক সম্পাদক সাকিব হোসাইন বলেন, আফনান ছাত্রশিবিরের জনশক্তি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠনের।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াত কীভাবে তাঁকে বহিষ্কার করবে? ছাত্রশিবিরের সংবিধান ও জামায়াতের গঠনতন্ত্র আলাদা। এক সংগঠন অন্য সংগঠনের সদস্যের বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’
সাকিব হোসাইন আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের সিদ্ধান্ত শিবিরের সাংগঠনিক পরিসরে এবং জামায়াতের সিদ্ধান্ত জামায়াতের সাংগঠনিক পরিসরে হয়ে থাকে। উপজেলা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি ‘অপসাংবাদিকতা’ ও ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর জামায়াত নেতাদের প্রতিবাদ, আফনান হাসান ইমরানের বক্তব্য এবং ছাত্রশিবির নেতাদের ব্যাখ্যায় বহিষ্কারের খবর নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি আরো স্পষ্ট হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আফনানকে বহিষ্কারের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে প্রকাশিত সংবাদে বহিষ্কারের যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে সংশ্লিষ্টদের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

