কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার পর লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে লাশের কাছেই একটি পরিত্যক্ত সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির কারণে কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা তাজমিন কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে তাজমিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
মেয়ের কক্সবাজার থেকে ফেরার বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার রাতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন বাবা আবদুল আলীম। তবে কোনো কলই তাজমিন ধরেনি। এরপর মেয়ের খোঁজে বের হন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা লাশটি নিজের মেয়ে জান্নাতুল তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন আবদুল আলীম।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানক্ষেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। একই স্থানে একটি সিএনজি অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।
লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। লাশের পাশে পাওয়া সিএনজি অটোরিকশাটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
কিশোরী কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছাল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

