কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার অভিজাত ওয়েসিস হোটেলে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের সময় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। তবে আটকের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরের ওয়েসিস হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতা ওই হোটেলে ইফতারের আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান ভূঁইয়া বাছির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ সাদেক হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ করিম মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন নেতা। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ওই অনুষ্ঠানে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামালের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক করেন। এ সময় নাজমুল হাসান ভূঁইয়া বাছিরের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর গুঞ্জন ওঠে, সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নাশকতার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ হোটেল ওয়েসিসে অভিযান চালায়। সেখানে নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক নেতাকে ইফতার করতে দেখা যায়। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তারা জামিনে আছেন। তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি সঠিক নয়; ঘটনাস্থলেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালেক আমার দেশকে বলেন, নাশকতার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সেখানে অনেক মানুষ ইফতার করতে এসেছিলেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের ছাড়িয়ে আনার অভিযোগটি তিনি প্রথমবারের মতো শুনছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

