বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

হত্যা মামলার আসামিরা বেপরোয়া, নিষ্ক্রিয় পুলিশ: এলাকাবাসীর ক্ষোভ

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

হত্যা মামলার আসামিরা বেপরোয়া, নিষ্ক্রিয় পুলিশ: এলাকাবাসীর ক্ষোভ
হত্যাকারীদের ধরতে সংবাদ সম্মেলন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছোট ষাটনল রঙ্গুখাঁর কান্দি গ্রামের মো. ফারুক খানকে সালিশি বৈঠকে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (২ জুলাই) এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, ২ জুন বিকেলে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক একটি সালিশ বসানো হয়। সেখানে প্রথম স্ত্রী হ্যাপী বেগম ও তার পক্ষের সালিশ দার রোকনুজ্জামান খান, নাছির প্রধান, নেয়ামত উল্ল্যাসহ ১২ থেকে ১৫ জন মিলে ফারুক খানকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করে।

ফারুক খানের বাবা নুর মোহাম্মদ খান বাধা দিলে তাকেও গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে ঘরে নিয়ে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। পরে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টায় রোকনুজ্জামানসহ কয়েকজন বাড়িতে হামলা চালায়। তারা মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখান।

নিহতের বাবা নূর মোহাম্মদ খান বলেন, আমার ছেলে ফারুক দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাকে ডেকে সালিশের নামে পরিকল্পিত ভাবে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও গাছে বেঁধে নির্যাতন করে। মারধরের আঘাতে ছেলের শরীর থেঁতলে যায়। পরে তারা মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বলে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তারা এলাকায় প্রভাবশালী, প্রশাসন নীরব। এ ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে আমরা হত্যা মামলা করেছি। এখনো আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিহতের মা হাসনেয়ারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফারুক খানকে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে ফারুক মারা যান।

স্থানীয়রা জানান, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় সালিশের নামে একজন মানুষকে মেরে ফেলার ঘটনা নজিরবিহীন। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় বিচার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, ফারুক খানের প্রথম স্ত্রী হ্যাপী বেগম গত ২২ জুন আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি দাবি করেন ফারুক আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবার এই মামলাকে ‘হত্যা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসেনি। তদন্ত চলমান রয়েছে।

এই ঘটনায় দু’টি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, হত্যার অভিযোগ দায়ের করা মামলাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...