কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পড়িয়ে থানায় নিয়ে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে জেলার চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল ও দৈনিক আমার শহর পত্রিকার দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, আমার আপন খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে গত ১ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন এসি ল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। আজ (বুধবার) ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল। আমাকে তিন দিন আগে আমার খালাতো বোন ফোন করে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। আমি আমার সহকর্মী মানবজমিনের প্রতিনিধি রাসেলকে নিয়ে চান্দিনায় যাই। এর আগে চান্দিনায় কর্মরত আমার পরিচিত সাংবাদিকদের ফোন করি। কিন্তু তারা বিভিন্ন কাজে চান্দিনার বাইরে অবস্থান করায় কাউকে পাইনি।
বুধবার ১১টার দিকে আমরা ভূমি অফিসে যাই। দুপুর দুইটা বাজার ২০ মিনিট আগে আমরা এসি ল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করি শুনানিটা আজ হবে কি না। এ সময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে তার খারাপ আচরণের ভিডিও ধারণের সময় তিনি টের পান। এ সময় আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চাইলে আমি বাধা দেই। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পুলিশ ফোন করে এনে আমাকে এবং সাংবাদিক রাসেল সরকারকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যেতে পুলিশকে আদেশ দিলে পুলিশ আমাদের থানায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, থানায় নেওয়ার পর আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মোবাইলের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি এবং ভিডিও ডিলিট করে দেন। পরে আমরা এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করব না মর্মে জোর করে আমাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আমাদের মুক্ত করে দিলে আমরা দেবিদ্বার চলে আসি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি একটি শুনানি করছিলাম। এমন সময় তারা আমার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আমি বলেছি, শুনানি শেষে আপনাদের ডাকা হবে। কিন্তু তারা বলেন, “আমাদেরটা এখনই শেষ করতে হবে।” একপর্যায়ে দেখি, তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই ভিডিও শুরু করেছেন। আমি চরমভাবে বিব্রত হয়ে পড়ি। বাধ্য হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে তাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে হাতকড়া পরায়। হাতকড়া পরানোর আগপর্যন্ত তারা বলেননি, নিজেরা সংবাদকর্মী। যখন বিষয়টি জেনেছি, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বলে তাদের হাতকড়া খুলে দিয়েছি।’
চান্দিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নই। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন আমরা পুলিশ সেটাই পালন করেছি ।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু, রেজা হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে, আমরা খুবই বিব্রত। আমরা এখনও পুরো ডিটেইলস জানতে পারিনি। তাই মন্তব্য করতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু দৈনিক আমার দেশকে বলেন, দুজন সংবাদকর্মীর হাতে হাত করা পরিয়ে তাদের থানায় পাঠিয়ে এসি ল্যান্ড ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি এ কাজ করতে পারেন না।
সংবাদকর্মী যদি ভুল কোনো তথ্য প্রকাশ করে থাকে, তাহলে তার মিডিয়ার কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের কাছে এসিল্যান্ড বলতে পারতেন। কিংবা চান্দিনা প্রেসক্লাব রয়েছে, কুমিল্লা প্রেসক্লাব রয়েছে। এ দুই সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু এসিল্যান্ড উনার সীমা ছাড়িয়ে গেলেন। দুঃখজনক। আমি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ক্ষমতার অসীম ব্যবহার করা কোনো প্রশাসনের কর্মকর্তার জন্য শুভকর নয়।
আজকের ঘটনাটি জেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করেছে। আশা করি জেলা প্রশাসক মহোদয় দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

