দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক: পুলিশ সুপার

সাজেকে পর্যটক উদ্ধারে গেলে ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ

সাজেকে পর্যটক উদ্ধারে গেলে ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ
ছবি: আমার দেশ

রাঙামাটির সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে গেলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা সরে যায় বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। বৃহস্পতিবার সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের উদ্ধারে গেলে ইউপিডিএফের সদস্যরা গুলি ছোড়েন। পরে তারা পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা সরে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাজেকে অবরোধের কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার সড়কে অবরোধের কারণে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করলে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া এক পর্যটক।

ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আলী আহসান বলেন, তাদের উদ্ধারে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানের সময় তারা গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

এর আগে অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় পর্যটকদের বাঘাইহাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রিসোর্ট ও কটেজের মালিক, জিপচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং পরিবহনশ্রমিকেরা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। তাদের বড় একটি অংশ স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ। অবরোধে স্থানীয় পাহাড়ি নারী-পুরুষকে জরিমানা ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শীতকালীন পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘটনার জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যদের দায়ী করেছেন পুলিশ সুপার।অবরোধের সঙ্গে ইউপিডিএফের সমর্থনপুষ্ট সাজেক গণ অধিকার পরিষদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফ ও সাজেক গণ অধিকার পরিষদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তবে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পর্যটক, সেনাসদস্য নাকি অন্য কেউ রয়েছেন, তাঁদের পরিচয় এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন