কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান নামে এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার ভোরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে ওই ছাত্রনেতার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার বাসিন্দা। তিনি কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, গভীর রাতে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকায় সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে কয়েক ব্যক্তি সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে জিসানকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন লোকজন।
পরিবারের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল নেতা জিসানের বড় ভাই কায়সারের সঙ্গে কবির টাওয়ারের মালিক জকরিয়ার ছোট ভাই মিজানের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কায়সার দাবি করছেন, জিসানকে অপহরণের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে তাদের মধ্যে ওই কথোপকথন হয়।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মিজানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা অপারগ হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এজাহার লিখেছি। কালকে দিনের মধ্যে আপনার ভাইকে (জিসানকে) নিয়ে যদি সমাধানে না বসেন, তাহলে আমি আমার মতো সমাধানের রাস্তা খুঁজে নেব। আপনার ভাইকে খুঁজতে ৫০ জন রেডি আছে।’
ওই কথোপকথনে জিসানকে নিয়ে আরও কিছু বক্তব্য রয়েছে। তবে অডিওটি মিজানের কি না, যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চকরিয়া থানার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় লোকজন সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারের পার্কিংয়ে সাদা রঙের একটি এক্স-নোহা গাড়ি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে বাড়ির মালিক জকরিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুটেজ দেখানো সম্ভব হয়নি।
চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, জিসানকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে পুলিশ জিসানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

