সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন্ত ইতিহাস দাঁড়িয়ে আছে। যেই ইতিহাস আজও সাক্ষ্য দিচ্ছে। সেই ইতিহাসকে নানা কায়দায়, নানান ধরণের পাতানো খেলায় মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা জানতো না সত্য ইতিহাসকে চিরতরে কখনও মোছা যায় না।
মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের কাজির দেউড়িস্থ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, মাথার উপর হাত দিলেই যেমন সূর্য ঢেকে যায় না, জনতাকে চাপা দিয়ে যেমন গণঅভ্যুত্থান ঠেকানো যায় না, তেমনি শত চেষ্টা করেও শহীদ জিয়াউর রহমানের ইতিহাস ঢেকে দেওয়া যাবে না। সত্য ইতিহাসকে কখনও স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব কখনও টিকে থাকতে পারে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনের শুরু এই চট্টগ্রামে এবং সমাপ্তিও এই চট্টগ্রামে। তিনি এখানকার কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এখানেই তাকে সার্কিট হাউজ ভবনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অথচ বিশাল এই ইতিহাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটাকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল গত ১৭ বছর ধরে। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে যে ট্রান্সমিটার এবং টেবিল ও চেয়ারে বসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় সেগুলো জিয়া স্মৃতি জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ আমলে। সেগুলো পুনরায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জিয়া জাদু ঘরে যেখানে শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় সেই খাট, উঠার সিড়ি, কক্ষ আগের মতো রেখে উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা হবে। স্থাপনাটির ল্যান্ডস্কেপিং ও আধুনিকায়নের জন্য একজন দক্ষ স্থপতি নিয়োগ করা হবে। এছাড়াও ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকায় জাদুঘরটির জন্য সরকারের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা আছে। একইসাথে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এখানে জনবল বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ঘিরে সরকারের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। তার স্মৃতি রক্ষার্থে এটি নিয়ে আমাদের সামনে অনেক পরিকল্পনা আছে। এতে উন্নয়ন ও সংরক্ষণই আমাদের মূল লক্ষ্য। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের একটি অংশ এখানে নিয়ে আসা হবে। এতে দুটি স্থাপনাকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনা হবে। অর্থাৎ শহীদ জিয়াউর রহমানের বর্ণময়, সংগ্রামী জীবনের সব স্মৃতি একই ছাদের নিচে নিয়ে আসা হবে। পাশপাশি এটাকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর দেশে যখন নেতৃত্বশূণ্য ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। একে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় ও জনগণের মাঝে উদ্দীপনা ফিরে আসে। এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

