চাঁদপুরে আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক এডহক কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক গঠিত পরিচালনা পর্ষদ বহাল রাখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তা ও অভিভাবকেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আল-আমিন সোসাইটির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সোসাইটির সুপরিচালনার কারণেই এটি চাঁদপুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাই অহেতুক এডহক কমিটি চাপিয়ে না দিয়ে সোসাইটি কর্তৃক গঠিত পরিচালনা পর্ষদ বহাল রেখেই স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে অভিভাবক মহলের পক্ষ থেকে কর্মসূচির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, আল-আমিন সোসাইটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বুলবুল ও আব্দুস শুক্কুর মস্তানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আল-আমিন সোসাইটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কল্যাণমুখী কর্মসূচির কারণেই চাঁদপুরবাসী একটি বিশ্বস্ত ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিসর দিনে দিনে বাড়ছে এবং পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করছে। অভিভাবকেরা দাবি করেন, আল-আমিন সোসাইটি কর্তৃক গঠিত গভর্নিং বডির অবিলম্বে অনুমোদন দিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ‘অযাচিত সরকারি-বেসরকারি হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য দেন কর্মসূচির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, সোসাইটির পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বুলবুল, আব্দুস শুক্কুর মস্তান, মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী এবং অভিভাবক ফরিদা বেগম ও পারুল বেগম।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আল-আমিন সোসাইটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এটি পরিচালিত হলেও বিভিন্ন সময়ে এতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ২০১৯ সালে তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে সোসাইটির পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছিল, তবে পরবর্তী সময়ে সোসাইটি আবারও পরিচালনায় ফিরে আসে। গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ঈর্ষণীয় ফলাফল করেছে; যার প্রমাণ সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ২২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তিনি বলেন, বেআইনি হস্তক্ষেপ থেকে প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধারের পর আবারও একই উদ্দেশ্যে সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে এডহক কমিটি গঠনের চিঠি দেওয়া হয়েছে। অথচ সোসাইটি কর্তৃক গঠিত বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে। আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই, দেশের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দখলদারিত্ব বা হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল বা অনৈতিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে যারা কলকাঠি নাড়ছেন, তারা চাইলে নিজেদের উদ্যোগে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন। অতীতে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের ফলে ফলাফল ও সার্বিক কার্যক্রমে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আল-আমিন একাডেমি নিয়ে সব ষড়যন্ত্র বন্ধের জোর দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন অভিভাবকেরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

