আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভোটার ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগ

পটিয়ায় জামায়াতের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

উপজেলা প্রতিনিধি, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

পটিয়ায় জামায়াতের জরুরি সংবাদ সম্মেলন
ছবি : আমার দেশ

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে একটি দলের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় তাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে।

তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ আচরণ আশা করেন। সুষ্ঠু ভোট হলে পটিয়া আসনে জামায়াতের ভূমিধ্বস বিজয় হবে বলেও দাবি করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে পটিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মিট দ্য প্রেসে তিনি আরও জানান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে পটিয়া হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, দুটি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠা, বেকার সমস্যা সমাধানসহ পটিয়াকে নিয়ে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

ডা. ফরিদুল আলম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’কে ভোটের সঙ্গে শর্তযুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এতে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করেন। একই সঙ্গে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল ভয়ভীতি ও প্রলোভন উপেক্ষা করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এসব অনিয়ম ও ভয়ভীতির কারণে অনেক ভোটার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে এই উদ্বেগ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

ডা. ফরিদুল আলম বলেন, ভোট প্রদান করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকারে যারা হস্তক্ষেপ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, জামায়াত নেতা গাজী আসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর জসিম উদ্দিন, পৌরসভা আমীর সেলিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট সুমন, হাসমত আলী, উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন, পৌরসভা জামায়াত সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক, এলডিপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ, জামাল উদ্দিন, মাহবুব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা শিবির সভাপতি মাহবুব উল্লাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...