আ.লীগ নেতার গুদামে ৫ হাজার বস্তা সরকারি গম, ঘিরে রাখল স্থানীয়রা

আ.লীগ নেতার গুদামে ৫ হাজার বস্তা সরকারি গম, ঘিরে রাখল স্থানীয়রা

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার শেরশাহ এলাকায় বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোয়ানের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম উদ্ধার করা হয়েছে। গুদামটি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বনফুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মোতালেবের বলে জানা গেছে। গম আনলোড করার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা গুদামটি ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গম সংরক্ষণাগার (সাইলো) থেকে খাগড়াছড়ি সদর এলএসডির উদ্দেশে শুক্রবার গভীর রাতে গমবোঝাই দুটি ট্রাক বের হয়। পরিবহন ঠিকাদার মোহাম্মদ ইছার তত্ত্বাবধানে ট্রাক দুটি রওনা হলেও নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে শনিবার সকাল থেকে শেরশাহ এলাকায় কিশোয়ানের একটি গুদামে গম আনলোড করতে শুরু করে।

এ সময় স্থানীয়রা গম আনলোডে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একটি ট্রাক পালিয়ে যায়। অন্য ট্রাকটি আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামে প্রবেশ করে। সেখানে ‘খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য’ লেখা অন্তত ৫ হাজার বস্তা গমের মজুদ দেখতে পায়।

এ ঘটনায় গমের উৎস, পরিবহন ও নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বায়েজিদ থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, অবৈধভাবে গম মজুদ রাখার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে খাদ্য অধিদপ্তর কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি।

ওসি জানান, কিশোয়ান গ্রুপের কর্মকর্তারা বিভিন্ন নিলাম থেকে গমগুলো কেনা হয়েছে বলে দাবি করে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেছেন। তবে সেগুলোর সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বনফুল গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব একসময় সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জুলাই বিপ্লবের পর থেকে তিনি পলাতক অবস্থায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তার গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

পতেঙ্গা সাইলোর তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল হাসান বলেন, যে গুদামের উদ্দেশে গম পাঠানো হয়, সেই গুদাম ছাড়া অন্য কোথাও গম নামানোর সুযোগ নেই।

তিনি জানান, পতেঙ্গা সাইলো থেকে ট্রাক বের হওয়ার সময় ঠিকাদারের প্রতিনিধির কাছে একটি চালান দেওয়া হয়। গন্তব্যের গুদামের ব্যবস্থাপক চালানটি গ্রহণ করে আবার সাইলোতে পাঠিয়ে দেন।

রাকিবুল হাসান বলেন, মাঝপথে গম নামিয়ে নেওয়ার পরও যদি গুদামের ব্যবস্থাপকের হাতে চালান বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সাইলো কর্তৃপক্ষের পক্ষে বিষয়টি শনাক্ত করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, গমগুলো কালোবাজারে বিক্রি হয়ে থাকলে তা পরিবহন ঠিকাদার ও খাগড়াছড়ির গুদাম ব্যবস্থাপকের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া সম্ভব নয় ।

তবে গমগুলো কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে চট্টগ্রামের শেরশাহ এলাকার গুদামে পৌঁছাল, উপস্থাপিত কাগজপত্রের সত্যতা কী এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় এখনো যাচাই করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন