কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে আদালতে ১৭৩

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে আদালতে ১৭৩

কুমিল্লার ১৮টি থানায় গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ । এর মধ্যে মুচলেকায় ৪৫১ অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় আদালতে ১৭৩ জন কে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লুৎফর রহমান।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সন্দেহে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ ।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে কুমিল্লা জেলার ১৮ টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানার এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে বখাটেদের উৎপাত রয়েছে ওই সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এই অভিযানে ৬২৪ জনকে জন্য আটক করা হয়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ভাঙচুর করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দুই মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক করা কিশোরদের ছাড়িয়ে নিতেই হামলা করা হয় দাউদকান্দি থানায় ।

তবে থানায় ভাঙচুর ও ১৭ জন পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুল ইসলাম পলাশ।

তিনি বলেন, ‘একটি প্লাস্টিকের চেয়ার উল্টে আছে, এর বেশি কিছু হয়নি। আমরা ২৮ জনকে আটক করেছি। তাদের স্ব স্ব অভিভাবকের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, মাদক সেবন,নিয়মিত মামলা,মোবাইল কোট,কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন এবং ওয়ারেন্ট মূলে ১৭৩ জনকে বিজ্ঞ আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে ‌‌।

তিনি আরো বলেন, আমরা দেখেছি সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার উঠতি বয়সের শিশুরা মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে এজন্য আমরা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১৯ শে সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা । যার কারণেই গতকাল কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন