সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরী

জিপিএ-৫ কিংবা পরীক্ষার পাসের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না

জিপিএ-৫ কিংবা পরীক্ষার পাসের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না

শুধু জিপিএ-৫ অর্জন কিংবা পরীক্ষায় পাসের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। একই সাথে সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং স্মার্টফোনে কী করছে—এসব বিষয়ে পরিবারের নিয়মিত নজরদারি জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসলাম চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় কেবল পাঠ্যবই মুখস্থ করিয়ে সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; শিক্ষার্থীর চরিত্র, আত্মবিশ্বাস, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু ফলাফলই শেষ কথা নয়। শিক্ষা এমন হতে হবে, যা একজন মানুষকে জ্ঞানী করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলের প্রত্যাশা থাকবেই। কিন্তু ফলাফলের চাপ যেন শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়। বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েই অভিভাবকদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, স্কুল শেষে কোথায় যাচ্ছে, পড়াশোনায় কতটা মনোযোগী এবং স্মার্টফোন বা প্রযুক্তির পেছনে কতটা সময় ব্যয় করছে—এসব বিষয়ে পরিবারকে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। প্রযুক্তি জ্ঞান ও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর অপব্যবহার যেন শিক্ষার্থীর সময়, মনোযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে।

কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি শিশুর মেধা ও যোগ্যতার ধরন এক নয়। কেউ পরীক্ষায় ভালো করে, কেউ খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব কিংবা অন্য কোনো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটায়। তাই শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক সক্ষমতা বিচার না করে তার সুপ্ত প্রতিভা চিহ্নিত করে বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি সুন্দর ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মূল্যবোধের পথ দেখাবেন, আর পরিবার সেই শিক্ষা ও আচরণের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজ—এই তিন পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা ছাড়া কেবল পরীক্ষার ফল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মাহবুব ই খোদা মোর্শেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আকবরশাহ থানার ওসি কামরুজ্জামান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাউদুল ইসলাম, সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব খ ম নাজিম উদ্দিন, বিএনপি নেতা রায়হান উদ্দিন মুকুল ও সালামত আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম নয়ন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা স্মারক, ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন