‘সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের এক দিন পরই কক্সবাজার আদালতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। তবে পরিবেশবাদীদের মতে, এ মামলা দায়সারা এবং কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট বনভূমি দখল করে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলেও বন বিভাগ তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা একটি মামলা দায়েরের মাধ্যমে মূলত এই বহুতল ভবনকে পরোক্ষভাবে বৈধতার সুযোগ করে দিয়েছে বন বিভাগ। মামলার আড়ালে নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, ধাপে ধাপে প্রায় ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই ভবন নির্মাণে অনুমতি দিয়েছেন, যার ফলে সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার পথ আরও সহজ হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম শাহিন। তিনি জানান, বন বিভাগের জায়গা দখলের অভিযোগে মোহাম্মদ হারুন ও মোহাম্মদ মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং: উখি-১৭/২৬)।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং পূর্বপাড়া এলাকার ‘স্বর্ণ পাহাড়’ নামক স্থানে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে পাঁচতলা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হয় এবং বর্তমানে অন্তত তিনতলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুতুপালং এলাকার মৃত ইলিয়াস ওরফে রোহিঙ্গা ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ হারুন ও তার ভাই মোহাম্মদ মামুন এই দখল ও নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দাবি করেছে, ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের কিছু অসাধু বনকর্মী ও দালালচক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে। আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা এলে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারব। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছাড়া নির্মাণকাজ চলতে থাকবে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন ও থানার পুলিশের সহযোগিতা না থাকায় আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছি না। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়নি।’
এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। ইতোমধ্যে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু মামলা দায়ের করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ট্রাম্পকে সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান পাকিস্তানের
খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়