নোয়াখালীতে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নোয়াখালীতে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর-হাজীর হাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহকে হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ধর্মপুর-হাজীর হাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহর ওপর একদল যুবক হামলা চালায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি নোয়াখালী সদর উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘ওই প্রধান শিক্ষকের যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তার জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাঁর ওপর হামলা ও নাজেহাল করা খুবই দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

এদিকে স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিলেন এবং নিয়মিত আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল হক ও আব্দুর রহিমসহ কয়েকজনকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিনি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির সময়ে বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বেতন থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা তিনি নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন এবং প্রয়োজন হলে বিদ্যালয় থেকে বাহকের মাধ্যমে ফাইল বাড়িতে এনে দাপ্তরিক কাজ করেন। বাড়িতে থেকেই তিনি বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের এসব অনিয়মের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে অদৃশ্য কারণে এসব অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় সুধারাম থানার ওসি নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। হামলার পেছনে টাকা লেনদেনসংক্রান্ত কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন