বুড়িচংয়ের শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুসের অভিযোগ

বুড়িচংয়ের শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুসের অভিযোগ, তদন্ত চলাকালে অবসরের উদ্যোগ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকের

বুড়িচংয়ের শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুসের অভিযোগ, তদন্ত চলাকালে অবসরের উদ্যোগ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকের

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ইবনে হোসাইনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় দিনই দুপুরের আগে কার্যালয়ে আসেন না। এছাড়া তদন্তাধীন একটি অভিযোগে সদ্য জাতীয়করণ হওয়া হাজী ফজর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে রক্ষা করতে তড়িঘড়ি করে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে সহযোগিতা করছেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ।

এ ঘটনায় দুই লাখ টাকা লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অবসরের উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় ঝাড়ু দিচ্ছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রামচন্দ্র দেবনাথ। তখন কার্যালয়ে অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না।

সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতেই রামচন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘অফিসে কেউ আসেনি। আপনি পরে আসেন।’ শিক্ষা কর্মকর্তা কখন আসেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার ১২টার আগে আসেন না। আপনি দুই ঘণ্টা পরে আসেন।’

জানা গেছে, সদ্য জাতীয়করণকৃত হাজী ফজর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন বিদ্যালয়ের পাঁচ সহকারী শিক্ষক।

একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কাজ করতে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তির কথা উল্লেখ করে তারা নিজেদের অন্যত্র বদলির আবেদনও করেন।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষকরা বলেন, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে চার থেকে পাঁচবার অনৈতিক, অশালীন ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। নথি অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বুড়িচং উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন জমা দেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর মাসুদ ইবনে হোসাইন আবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।

আবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক অসুবিধার কারণে তিনি আগামী ১ নভেম্বর তারিখ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিতে চান।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে অবসরের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রধান শিক্ষককে ‘বাঁচানোর’ জন্য দুই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। 

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, কাজী মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৮৮ সালের ২০ জানুয়ারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণের আগ পর্যন্ত তার বেসরকারি চাকরির মেয়াদ ছিল ২৪ বছর ১১ মাস ১২ দিন।

এর ৫০ শতাংশ হিসেবে ১২ বছর ৫ মাস ২১ দিন এবং জাতীয়করণের পর ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি চাকরির মেয়াদ ১৩ বছর ৯ মাস ৩১ দিন হিসাব করা হয়েছে।

নথিতে দুই মেয়াদ মিলিয়ে তার চাকরিকাল ২৬ বছর ৩ মাস ২৬ দিন উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদনটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। আবেদনে তিনি পিআরএল ছুটি ভোগ করবেন বলেও উল্লেখ করেছেন।

একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় কেন এত দ্রুত তার স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন গ্রহণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলো। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অবসর গ্রহণের প্রক্রিয়া কেন এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুড়িচং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে বাঁচাতেই অর্থের বিনিময় এ কৌশল অবলম্বন করেছেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা । এছাড়া দুপুরের আগে উনি অফিসে আসেন না বিভিন্ন অজুহাতে । 

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন পদত্যাগ করতে পারেন না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বুড়িচং উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ইবনে হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...