ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় শরীফ উদ্দিন রেজভী (৩২) নামের এক ভুয়া পিবিআই (পুলিশ) পরিচয়ধারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
রোববার বিকেলে উপজেলার শ্যামবাড়ী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। শরীফ উদ্দিন রেজভী উপজেলার রানিয়ারা বিষ্ণুপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মিয়ার ছেলে। আটকের পর তিনি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শরীফ উদ্দিন বিভিন্ন মামলার কপি সংগ্রহ করে মামলার বাদী ও বিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। মামলার কপি দেখিয়ে তিনি নিজেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর সদস্য পরিচয় দিয়ে বাদী ও বিবাদীদের পক্ষে মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার নামে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেন।
রোববার বিকেলেও তিনি কসবা উপজেলার শ্যামবাড়ী গ্রামে একটি মামলার কপি নিয়ে যান। এ সময় তার পরনে ছিল পুলিশের নেভি ব্লু প্যান্ট ও বুটজুতা। শ্যামবাড়ী গ্রামের একটি দোকানের সামনে এসে তিনি একজনের ঠিকানা খুঁজতে থাকেন। তখন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও এক আইনজীবীর আত্মীয় নয়ন নাজিরের কাছে তার কথাবার্তা কিছুটা অসংলগ্ন বলে মনে হয়। উপস্থিত লোকজন তার পরিচয় জানতে চাইলে প্রতারক শরীফ উদ্দিন রেজভী নিজেকে পিবিআই সদস্য দাবি করেন। উপস্থিত লোকজন তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন।
একপর্যায়ে তিনি নিজেকে আদালতের এক আইনজীবীর মোহরার (মুহুরী) বলে দাবি করেন। মোহরার কার্ড দেখতে চাইলে শরীফ উদ্দিন কম্পিউটারে তৈরি একটি ভুয়া আইডি কার্ড প্রদর্শন করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে শরীফ উদ্দিন স্বীকার করেন যে, তিনি বিভিন্ন উপায়ে মামলার ছবি তুলে তা প্রিন্ট করে বাদী ও বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে মামলা জিতিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, প্রতারণার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শরীফকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

