কক্সবাজারের উখিয়ায় বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় গোডাউনের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য প্রদানের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে দুই আবেদনকারীর বিরুদ্ধে। এছাড়া একই গোডাউন দুটি আলাদা আবেদনে ব্যবহার করা এবং একটি রাইস মিলকে সারের গোডাউন হিসেবে দেখিয়ে সুপারিশ পাঠানোর ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এই অসত্য তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও।
ইতোমধ্যে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিতর্কিত আবেদন দুটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা এলাকার মেসার্স সিকদার এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহ সিকদার এবং নুর জাহান এন্টারপ্রাইজের পক্ষে এনাম উল্লাহ সিকদার (ওরফে এহছান উল্লাহ সিকদার) সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, উভয় আবেদনকারীই স্থানীয় আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া একই গোডাউনকে নিজ নিজ সারের গোডাউন হিসেবে নথিপত্রে প্রদর্শন করেছেন।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, মেসার্স সিকদার এন্টারপ্রাইজ ও নুর জাহান এন্টারপ্রাইজের প্রস্তাবিত গোডাউনটি মূলত একটি রাইস মিল এবং তা একই স্থানে অবস্থিত। শুধু তাই নয়, ওই ভবনের সাথেই রয়েছে ‘আল্লাহ ভরসা হোটেল’ নামে একটি খাবার দোকান, একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান এবং সংলগ্ন ভবনে একটি হেফজখানা।
নীতিমালা অনুযায়ী, সার ডিলার নিয়োগের আবেদন ফরমে গোডাউনের আশেপাশে কোনো রেস্তোরাঁ বা খাবারের দোকান আছে কি না—এমন প্রশ্নে উভয় আবেদনকারীই ‘না’ উল্লেখ করে অসত্য তথ্য প্রদান করেছেন। এসব জালিয়াতি ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন সত্ত্বেও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন থেকে পাঠানো সুপারিশ তালিকায় মেসার্স সিকদার এন্টারপ্রাইজকে ১ নম্বরে এবং নুর জাহান এন্টারপ্রাইজকে ২ নম্বরে রেখে উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একই স্থানে সারের মতো রাসায়নিক দ্রব্যাদির গোডাউন স্থাপন করা হলে পার্শ্ববর্তী খাবারের দোকান, এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। বিশেষ করে কোমলমতি হেফজখানার শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
একই গোডাউনকে একাধিক আবেদনকারী ব্যবহার করা এবং পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করা সরকারি সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে সরেজমিনে পুনস্তদন্ত করে অসত্য তথ্য দেওয়া দুই আবেদনকারীর আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু আবেদনকারীদের এনআইডি ও মৌলিক তথ্যগুলো যাচাই করেছি। কোনো পক্ষাবলম্বন করে রিপোর্ট দিইনি। বাকি কাজ কৃষি অফিস পরিচালনা করেছে।
অন্যদিকে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীস সরকার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে নামের প্রস্তাব দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
একটি চালু রাইস মিল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানকে সারের গোডাউন দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেন, নিয়োগ পাওয়ার পর রাইস মিলটি পরিষ্কার করে সারের গোডাউন করা হবে এবং আশপাশের দোকানপাটও সরিয়ে নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে সার ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

