কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নারী সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের ১০জন আহত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেল উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারী তার বাড়িতে মাদক বিক্রি ও অনৈতিক কাজ করে আসছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে পাশ্ববর্তী কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর স্থানীয় যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে মারধর করে। যুবকদের অভিযোগ, মিয়াধন এবং ওই নারীকে তারা আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছেন। মিয়াধনকে মারধরের খবর শুনে তার লোকজন লাঠি নিয়ে সোনাপুরের যুবকদের উপর হামলা চালায়। হামলায় সোনাপুর গ্রামের যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এঘটনার জের ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৬০ থেকে ৭০ জন অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও যুবকরা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করে। এসময় ২০টি দোকানপাট ও বাড়িঘরে লুটপাট করা হয়। হামলাকারীরা মুখোশ পড়ে ককটেল বিস্ফারণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
হামলা পাল্টা হামলায় আশে পাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। দফায় দফায় সংর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়ি ও দোকান পাটে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টাব্যাপী লুটপাট চলে।
হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে। সংঘর্ষে ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্ব দেন রুবেল ও রানা। তারা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ আগস্টের পর নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তাদের বিরুদ্ধে ভাংচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে চৌদ্দগ্রাম থানায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি’।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

