মিয়া গোলাম পরওয়ার

এদেশে সব বিষয়ক একজন মন্ত্রী রয়েছেন, তিনি সব মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন

এদেশে সব বিষয়ক একজন মন্ত্রী রয়েছেন, তিনি সব মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এদেশে সব বিষয়ক একজন মন্ত্রী রয়েছেন। তিনি সব মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে ছোট করে তিনি বক্তব্য রাখেন। অথচ তার নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে তার খেয়াল নেই।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার কুমিল্লায় জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। সরকার ওই সময়ের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের প্রশাসক নিয়োগ অসাংবিধানিক।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আজকে যদি দেশে কোনো দলীয় সরকার না থাকত, তাহলে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা ছিল। কিন্তু এখন দলীয় নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তারা এটা পারে না। সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দিলে জনগণের ভোগান্তি কমবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের সে পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপিসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল, নির্বাচিত সরকার ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা এখন জুলাই সনদকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। সবদিকে শুধু সরকারদলীয় লোকদের মারামারি দেখতে পাচ্ছি। দেশে উন্নয়নের বৈষম্য চলছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনে সুষম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা বেমানান। এর মাধ্যমে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আরও খাটো করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের ১৩ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাহলে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় আমাদের নারী সংসদ সদস্যদেরও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হোক।’

পরে বিকেল ৩টায় কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অঞ্চল টিমের সদস্য আব্দুস সাত্তার ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুমের সভাপতিত্বে শিক্ষা শিবির পরিচালনা করেন অঞ্চল সহকারী পরিচালক ও কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

এর আগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ভিপি সাহাব উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রহিম, মজলিসে শূরা সদস্য ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন ওপেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন