নোয়াখালীর সেনবাগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার একদিন পর পুকুরপাড় থেকে মো. মারুফ (২১) নামে এক যুবকের গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে মারুফের লাশ উদ্ধার করা হয়। মারুফ ওই এলাকার মো. রিপনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে নিজের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন মারুফ। পরে জামাকাপড় একটি ট্রাভেল ব্যাগে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
বুধবার রাতে বাড়ির পাশে ধানখেতসংলগ্ন পুকুরপাড়ে মারুফের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, গলায় গামছা বাঁধা লাশটি পুকুরপাড় ও ধানখেতের মধ্যে পড়ে আছে। গামছার একটি অংশ পুকুরপাড়ে গাছের ডালের মধ্যে বাঁধা ছিল, আর ওপরের অংশ লাশের গলায় পেঁচানো ছিল। গলায় থাকা গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানখেতে পড়ে থাকতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় সেনবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

