সীতাকুণ্ডে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি, ৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট

সীতাকুণ্ডে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি, ৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে। যাওয়ার সময় ডাকাত দল সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের সমালোচনার মুখে পড়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার জহুরুল আলম চৌধুরীর বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির পেছনের বারান্দার গ্রিল কেটে ভবনের তৃতীয় তলায় প্রবেশ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তিন নারীর হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের অভিযোগ, পালানোর সময় ডাকাতরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। এতে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে হার্ডডিস্ক উদ্ধার কিংবা অন্য কোনো সূত্রে ডাকাতদের শনাক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া গেছে কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১২ ঘণ্টা পরও খবর জানতেন না ইনচার্জ

ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুবেল আফ্রাদ আমার দেশকে বলেন, ব্যস্ততার কারণে কিছুটা দেরিতে হলেও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পরও ফাঁড়ির ইনচার্জ ডাকাতির বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তিনি অন্য একটি বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে ঘটনার সময় ফাঁড়িতে কতজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন, এলাকায় টহল চলছিল কিনা এবং পুলিশের কাছে খবর পৌঁছাতে দেরি হলো কেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

লিখিত অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, ডাকাতরা কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, পুলিশ সারা এলাকা দেখে, আপনি তো আপনার বাড়িই সেইভ করতে পারছেন না। দু-একটা ডাকাতি ঘটবে, ঘটতেই পারে। আমরা দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। তার এ মন্তব্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন