সাংবাদিক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি

উপজেলা প্রতিনিধি, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

সাংবাদিক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি
সীমানায় ভেঙে ফেলা পিলার। বামে অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দীন ওরফে ইফনান।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাংবাদিক পারিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবদুল মজিদ চৌধুরী শাহরিয়ার লোহাগাড়া থানায় জিডি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহরিয়ার ওই এলাকার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজের ঢাকা অফিসে কর্মরত।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। তবে সম্প্রতি সেই মীমাংসিত সীমানা নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, শাহরিয়ার কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তার জমিতে ঢুকে সীমানা পিলার ভেঙে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

শাহরিয়ারের ভাবি মনিরা ইয়াসমিন বলেন, বাড়িতে শুধু আমরা তিনজন নারী ছিলাম। আমাদের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সীমানার পাকা পিলার ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তারা মারধর ও নিষ্পত্তিকৃত জমির সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

সাংবাদিক শাহরিয়ার বলেন, মৃত শের আলী চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে ২০২২ সালে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। ওই সময় আমাদের সীমানায় স্থায়ী পিলার স্থাপন করা হয়েছিল। তখন কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহমেদ নিজে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন কিন্তু চার বছর পর সেই মীমাংসিত জমিতে প্রকাশ্যে দিবালোকে সীমানা পিলার ভেঙে দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গিয়াস উদ্দিন ইফনান কোনো জনপ্রতিনিধি নন। তিনি কেন সেখানে সালিশ করতে গেলেন, তার ভূমিকা কী? এটি দুই পক্ষের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে নির্ধারিত চূড়ান্ত সীমানা, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হয়। যদি কোনো আপত্তি থাকত, তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। বর্তমান চেয়ারম্যান নিজে ২০২২ সালে ঘটনাস্থলে পরিমাপের সময় উপস্থিত ছিলেন। আইন উপেক্ষা করে গিয়াস উদ্দিন কেন পিলার ভাঙলেন, আমি তার বিচার চাই।

অভিযুক্ত মুরাদের মা শাহেদা ইয়াসমিন হিরণ বলেন, আমাদের বাড়ি নির্মাণের যেন কোন সমস্যা না করে সেজন্য তাদের ইচ্ছে মত পিলার দিতে দিয়েছিলাম। তখন যে পরিমাপ করে পিলার দেওয়া হয়েছিল তা ঠিক ছিলো না। এখন আমাদের বাড়ি কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আমরা চারিদিকে বাউন্ডারি দিয়ে দিবো। তারা খারাপ ব্যবহার করায় কয়েকটি পিলার ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন ইফনান জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধেই কেনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তাও আমি অবগত নই।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০২২ সালে আমার উপস্থিতিতে বিরোধটি নিষ্পত্তি হয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।

লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। অভিযোগপত্রটি আমাকে একটু পাঠান।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন