তিতাসে চার মাসে ১৮০ অপরাধী গ্রেপ্তার

উপজেলা প্রতিনিধি, তিতাস (কুমিল্লা)

তিতাসে চার মাসে ১৮০ অপরাধী গ্রেপ্তার

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসা, জুয়া, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও নাশকতাসহ সকল অপরাধীদের আতঙ্কের নাম কুমিল্লার তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদ উল্লাহ। তিনি যোগদানের চার মাসে একাধিক চিহ্নিত মাদক সম্রাট, শীর্ষ সন্ত্রাসী, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, বৈষম্য বিরোধী মামলার আসামি, হত্যাকারী, অপহরণকারী, ডাকাত ও জুয়ারিসহ ১৮০ জন অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হন।

বিজ্ঞাপন

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মাদক সম্রাট আসলাম, সাত্তার, মোশারফ, নিহত কিলার মামুনের সহযোগিতা সন্ত্রাসী রকিবুল ইসলাম বুলেট, ছোট মামুন, রিপন, খলিল মিয়া এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামি সেলিম মিয়াসহ অনেকেই। এসময় পুলিশ ৫ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা, ৯০১ পিস ইয়াবা ও ৫ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করেন। তার এমন সাহসী পদক্ষেপে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক অপরাধীরা এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে রয়েছে। অপরাধ দমনে তার এমন যোগ্য নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন।

সম্প্রতি উপজেলার সাহাবৃদ্দি গ্রামের ট্রাক্টর চালক নজরুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেওয়া প্রধান দুই হত্যাকারীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়ে নিহত স্বজনসহ তিতাসের সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং অপরাধীদের কাছে হয়ে উঠেছেন আতঙ্ক।

এছাড়াও ওসি শহীদ উল্ল্যাহ অপরাধীদের সাথে কখনো আপস করেননা। অপরাধীদের ধরতে তিনি নিজেই ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে করছেন মাদক বিরোধী সভা।

পুলিশের এই কর্মকর্তার প্রশংসা করে একাধিক ব্যক্তি বলেন, ওসি শহিদ উল্লাহ থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও মাদকদ্রব্য এবং সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে একের পর এক যে অভিযান পরিচালনা করছেন তা সত্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে তিতাস হবে একটি শান্ত ও নিরাপদ উপজেলা।

ওসি শহীদ উল্লাহ বলেন, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল আমি তিতাস থানায় যোগদান করি। যোগদানের পর থেকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাসসহ তিতাসকে অপরাধমুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সেবার মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যতদিন এই থানায় কর্মরত আছি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিরলস ভাবে আমার দায়িত্ব পালন করে যাবো। আপনারা যখনেই দেখবেন কোথাও জুয়া খেলা হচ্ছে বা মাদক সেবন অথবা ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে তখনেই পুলিশকে খবর দিবেন পুলিশ সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই জন্য তিনি রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...