কুবি শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

প্রতিনিধি, কুবি

কুবি শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী চট্টগ্রামগামী একটি বাসে শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তরা তাকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেন। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, তিনি আলেখারচর থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য লোকাল সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। এ সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। পথিমধ্যে বাসে থাকা চালকের সহকারী ও তার দুই সহযোগী মিলে ওই শিক্ষার্থীর হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং তার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন। এরপর তারা তার ওপর যৌন হয়রানি চালানোর চেষ্টা করে এবং তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা একজনকে বাস থেকে পড়ে যেতে দেখে বাসটি থামান। এ সময় বাসে থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে যায়। বাকি দুজনকে তারা ধরে ফেলেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তদের মারধর করেন। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে দুই অভিযুক্তকে আটক করে।

শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে বিচার করতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি আটকে রাখে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপার এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। অভিযুক্তদের শাস্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করার পর শিক্ষার্থীরা বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানম বলেন, আটককৃত দুজনকে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছি। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে। ভুক্তভোগীর যে ক্ষতি হয়েছে, তা আটককৃত বাসের মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হবে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার এসিল্যান্ড সজীব তালুকদার জানান, অভিযুক্তরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করে লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তদের দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, যা অজামিনযোগ্য। পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে এবং এক মাসের মধ্যে মামলার চার্জশিট জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ছিনতাই, হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি পুলিশ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখবে এবং এই মামলার নিয়মিত আপডেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন