এক সময়ে ছিল পাঁচ তারকা হোটেলের আদলে গড়া বিশাল ভবন । নামে রাজনৈতিক দলের অফিস হলেও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পাঁচ তারকা হোটেলের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় । কিন্তু পাঁচই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভের আগুনে জ্বলে-পুড়ে সেটি এখন পরিত্যক্ত ভবন ।
নগরীর কান্দিরপাড় রামঘাটলায় ১০ শতক জমির উপর নয় তলা এ ভবনটি ছিল আধুনিক নানা সুযোগ সুবিধায় ভরা। গেস্ট হাউজ থেকে শুরু করে ইনডোর আউটডোর গেমসসহ আরামদায়ক কোনোকিছুই বাদ যায়নি এ ভবন থেকে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল এই তারকা হোটেল সমৃদ্ধ দলীয় কার্যালয় বানান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিন বাহার।
যার সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখাননি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর বাহারের গড়া আওয়ামী লীগের বাহারি ডিজাইনের কার্যালয়ে জ্বলে জনতার ক্ষোভের আগুন। যে ক্ষোভ থেকে রক্ষা হয়নি সমৃদ্ধ ভবনটি । সেদিন ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরফলে এক যুগের বেশি ক্ষমতার দাপটে যারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষজনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে তারাই এখন পলাতক-ঘরবাড়ি ছাড়া ।
স্থানীয় এক হিন্দু এক বাসিন্দা জানান, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের অফিস হিন্দুদের জায়গা দখল করে করা হয়েছিল।
মহানগর আ.লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অফিস, কনফারেন্স হল, মিডিয়া রুম, গেস্ট হাউজ, ক্যাফেটারিয়া, ইনডোর গেইম স্পট, একাধিক লিফট, সিসি ক্যামেরা, ইন্টারকম, অগ্নি-প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ওয়াইফাই সুবিধাসহ প্রযুক্তির সব সুযোগ ছিলো ভবনটিতে। প্রতিটি ফ্লোরের নামকরণ করা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নামে। ভবনের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি। ৫ আগস্টের পর যা এখনো অক্ষত।
অত্যাধুনিক এ কার্যালয় মুক্তিযোদ্ধাদের ও হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেই নির্মাণ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মহানগর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ অফিস এখন মাদকের স্বর্গরাজ্য। সন্ধ্যার পর এখানে মাদক সেবন করে। নয়তলা এই ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে অফিসের সামনের রাস্তায় এবং ভবনে হিন্দু সম্পত্তি ও দখল করেছেন কুমিল্লার দানব বাহার। নগরী রাম ঘাটলা রোডের ব্যবসায়ী ঠিকাদার শফিক কন্টাক্টারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন সাবেক এমপি বাহার।
এছাড়াও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিন বাহার কুমিল্লার মানুষের কাছে দানব হিসেবে পরিচিত।
শনিবারের সকালে দেখা গেছে, কুমিল্লায় কান্দিরপাড় রামঘাটলায় মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এখন শুনসান নিরবতা। পরিত্যক্ত পোড়া ভবন। জনশূন্য থাকার কারণে আনাগোনায় ব্যস্ত কয়েকটি কুকুর। সাধারণ মানুষজন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে এ কার্যালয় বেছে নিচ্ছেন।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা বলেছেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় নির্মাণের সময় ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন কুমিল্লার ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দিন বাহার। আওয়ামী লীগ কার্যালয় করার নামে কুমিল্লা শহরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

