কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নলচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন জামাল ও সালমা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি সরকার ও একই ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল বারেকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সেই বিরোধ আরো প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দুজনই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে রবিউল্লাহ রবি সরকারের বাড়ির সামনে আব্দুল বারেকের অনুসারীরা পাঁচটি আতশবাজি ফোটান। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ২০ জন আহত হন।
চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবি সরকার বলেন, ‘বারেকের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করেছে। আমার বাড়ির লোকজন আহত হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল বারেক বলেন, ‘রবি মিথ্যা কথা বলছে। ওরা নিজেরা আতশবাজি ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।’
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

