চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কারাগারে থাকা জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকায় আইয়ুব আলীর বাড়িতে যান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমানসহ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা।
তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। একই সঙ্গে আইয়ুবের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, আইয়ুব আলীর পরিবারের ওপর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ নেমে এসেছে। তার স্ত্রী ও ছোট দুটি সন্তান ছাড়া পরিবারে আর কেউ নেই। প্রতিবছর আইয়ুব কয়েক একর কৃষিজমিতে আগাম সবজি উৎপাদন করেন। তিনি কারাগারে থাকায় এবার সেই কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমান জানান, জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আইয়ুব আলী চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর মানবিক কারণে তারা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিবারকে আইনগত সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় যা কিছু করা দরকার, তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারটির অসহায় অবস্থার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
৬ অক্টোবর মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকায় সারবোঝাই দুটি ট্রাক থামানোকে কেন্দ্র করে আইয়ুব আলীসহ দুজনের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়। স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে আইয়ুবও ট্রাক দুটি থামিয়েছিলেন।
পুলিশের দাবি, সারগুলো বৈধ নিলামের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল এবং মালিকের কাছে নিলামের কাগজপত্র ছিল। ওই কাগজের ভিত্তিতেই সারগুলো সন্দ্বীপে নেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে সার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে থানা প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ নিলাম করা হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, ট্রাক দুটি থামানোর সময় চালকদের কাছে সারের মালিকানা বা পরিবহনের বৈধ কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ একটি নিলামের কাগজ নিয়ে আসে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরু মারমাও জানিয়েছেন, গুলিয়াখালীর ওই সার নিলামের বিষয়ে কৃষি বিভাগকে আগে থেকে কিছু জানানো বা অবহিত করা হয়নি।
কল্পনা রহমান জানান, দুই ট্রাক সার সন্দ্বীপে যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পৌঁছানোর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সারগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, সে সম্পর্কেও কৃষি বিভাগের কাছে কোনো তথ্য নেই। ফলে নিলামের পর সার কার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছালে সেগুলোর চূড়ান্ত অবস্থান কোথায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

