চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া বক্তারপাড়া এলাকায় একটি গুদাম কারখানায় টিনশেড ধসে দুই ওয়ার্কশপ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর মো. ফারুক (৩০) এবং কুমিল্লার মো. জহির (৩৫)।
বুধবার দুপুরে সাগর উপকূল সংলগ্ন ‘অল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি গুদামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা কারখানা মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে গুদামের ভেতরে ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে একটি টিনশেড চালা কাটার কাজ করছিলেন ফারুক, জহিরসহ আরও ৫-৬ জন শ্রমিক। কাটিং কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই টিনশেডের চালাটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এতে ভারী টিনশেডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ফারুক ও জহিরের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর সহকর্মীরা বাইরে থেকে ক্রেন এনে ভেঙে পড়া টিনশেড সরিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন।
সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, বিভিন্ন রোলিং মিল থেকে ডাস্ট সংগ্রহ করে বড় টিনশেডের ভেতরে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানা গেছে। তবে কারখানাটির বৈধ অনুমোদন আছে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী কাঠামো অপসারণ বা কাটার সময় প্রয়োজনীয় প্রকৌশল তদারকি, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও ঝুঁকি মূল্যায়ন নিশ্চিত না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের স্বজনরা অবহেলার অভিযোগে কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, গুদাম মালিকের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা এবং কারখানাটির বৈধ অনুমোদন আছে কিনা, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

