ধর্ষণের আসামিকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে

রায়পুরে ছাত্রদল নেতা জেলহাজতে

উপজেলা প্রতিনিধি, ‎রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

রায়পুরে ছাত্রদল নেতা জেলহাজতে
ছবি: আমার দেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অটোরিকশাচালক সাহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে ছাত্রদলের পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।‎

‎স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর মা বাইরে কাজে গেলে মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরে একা থাকার সুযোগে অভিযুক্ত সাহিন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।‎

বিজ্ঞাপন

‎ভুক্তভোগী কিশোরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানায়, ‘মা বাসায় না থাকায় আমাকে একা পেয়ে সাহিন (৪৫) জোর করে ঘরে ঢুকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরে আমার ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেয়, কাউকে বললে ভিডিও ছড়িয়ে দেবে এবং আমার মা-ভাইকেও মেরে ফেলবে।

‎পরিবার ও স্থায়ীদের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করলেও পরে পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত সাহিনকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা রাকিবের সহযোগিতায় অভিযুক্ত সাহিন পালিয়েছে । আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।‎

‎আরেক প্রতিবেশী মিতু বলেন, ‘রাকিব মোটরসাইকেল নিয়ে অভিযুক্তকে আনতে যায়। পরে পাশে নিয়ে কথা বলে টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । সত্যতা মিললে তারও বিচার হওয়া উচিত।’

‎ভুক্তভোগী কিশোরীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী নাই সংসারের প্রয়োজনে আমাকে বাইরে কাজ করতে হয়। আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মেয়ের সর্বনাশ করা হয়েছে। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিব বলেন, ‘আমি নিজেই অভিযুক্তকে ধরে পুলিশ ও সাংবাদিকদের খবর দিয়েছি। তাকে পালাতে কোনো সহযোগিতা করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।’

‎এ বিষয়ে রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার আসামিকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে রাকিবকে আটক করা হয়েছে। তাকে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন