সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসনে জমজমাট হয়ে উঠেছে মাঠের রাজনীতি। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, মিছিল ও গণসংযোগের মাধ্যমে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। সবাই নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সাবেক এই এমপি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। বিগত দিনে দলের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করায় বারবার এই আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে দল মূল্যায়ন করছে। তিনি নির্বাচনি মাঠ আগেই গুছিয়ে রেখেছেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হলেও হামলা চালিয়ে, গুলি করে তাকে আহত করে জয় ছিনিয়ে নেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম ইব্রাহিম।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হলেও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এমপি নির্বাচিত হলে বিগত দিনের মতো এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা ছাইফ উল্লাহ এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনি এলাকা। তিনি বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার এবং পরীক্ষিত একজন নেতা। তৃণমূলে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। নির্বাচিত হলে মাদক, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অশ্লীলতামুক্ত সমাজ গঠন, জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন বলে জানান মাওলানা ছাইফ উল্লাহ।
এই আসনে নতুন মুখ ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম। নানা প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এখন নোয়াখালী-১ আসনে আলোচিত প্রার্থী। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও আগে থেকেই এলাকায় জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে এলাকার মানুষের মধ্যে মিশে গেছেন।
ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনিও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। নির্বাচিত হলে চাটখিল-সোনাইমুড়ী উপজেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান জহিরুল ইসলাম।
বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত আসনটিতে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটের অঙ্ক মেলানো মুশকিল। এখানে মূলত বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । এ ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট ও নারী ভোটাররা। তাদের সমর্থন যে দিকে যাবে, ভোটের পাল্লা ভারী হবে সে দিকেই।
তবে একাধিক ভোটার জানান, যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, সুখে-দুঃখে থাকবেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূলে কাজ করবেন, আমরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচত করব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

