চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ইব্রাহীম হোসেন বাবুলের হাজিরা খাতায় টানা ২৬ মাস কোনো স্বাক্ষর নেই। তিনি সীতাকুণ্ড পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি। কলেজসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনিয়মিত। অথচ একই সময়ে তার নামে নিয়মিত বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাবে জমা ও উত্তোলন হয়েছে। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরও কীভাবে তার বেতন বিল প্রস্তুত, যাচাই ও অনুমোদন হয়েছে—খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ও আর্থিক নথি পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার নজরে আসে। ঘটনাটি সামনে আসার পরই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে কেবল হাজিরা খাতা নয়, সংশ্লিষ্ট সময়ের ছুটির আবেদন ও অনুমোদনপত্র, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, মাসভিত্তিক বেতন বিল ও ক্যাশবুকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক নথি নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে উপস্থিতির রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কোন নথির ভিত্তিতে তার নামে বেতন বিল প্রস্তুত করা হয়েছে, কারা এই বিল তৈরি ও যাচাই করেছেন এবং কার প্রত্যয়ন ও অনুমোদনের পর অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে— এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুসা জানান, কারণ দর্শানোর জবাবে অফিস সহকারী বাবুল তার শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার জন্য তার ছুটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ছিল কিনা এবং অসুস্থতার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত বৈধ নথি রয়েছে কিনা, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে।
কলেজ পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম নাছির বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে দীর্ঘ সময় ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করা হলো, বিষয়টি তিনি সম্প্রতি কলেজ পরিচালনা কমিটির একটি সভায় উত্থাপন করেছিলেন। তবে সভায় বিষয়টি তোলার পরও তিনি এ সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি।
নাছির আরো দাবি করেন, ইব্রাহীম হোসেন বাবুল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর এই নিয়োগ হয়েছিল।
এদিকে অভিযুক্ত কেরানি ইব্রাহীম হোসেন বাবুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


