চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৃথক দুটি ঘটনায় মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের হেনস্তা এবং একটি মসজিদের খতিবকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী খতিব চাকরি হারানো ও প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে উপজেলা জামায়াত ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা।
গত সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদিলপুর গ্রামে এবং শনিবার রাতে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারিটোলা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার অডিও ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের দায়িত্বশীল মোর্শেদা বেগম নারী কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে বিএনপির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম সোহাগ ও যুবদল কর্মী আরিফ হোসেন সেখানে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় বিএনপি নেতা নাজমুল আলম সোহাগ, যুবদল কর্মী আরিফ হোসেন ও মহিলা দলের নেত্রী মাসুদ খায়ের নারী জামায়াত কর্মীদের গালিগালাজ করেন এবং ঝাঁটার বাড়ি দেওয়ার হুমকি দেন। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে আইডি কার্ড সংগ্রহ ও বিকাশ নম্বর তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ তোলেন তারা। পরে ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা বাকবিতণ্ডা চলে।
অন্যদিকে, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারিটোলা গ্রামে বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব আল আমিনকে প্রাণনাশের হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন রাজু ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত দুটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি অডিওতে শাহাবুদ্দিন রাজুকে তুইতোকারি ভাষায় খতিবকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়,“আপনাকে বাড়বকুণ্ডে পেলে পেটাতাম আমি। ওইদিন মসজিদে পেলেও পেটাতাম। আপনি শহর থেকে এসে গ্রামে এসব শুরু করলেন—আপনি আর এখানে আসবেন না।”
এ সময় তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেও শোনা যায়।
অন্য একটি অডিওতে যুবদল নেতা একরাম হোসেনকে খতিবকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, “আপনার বাড়ি কোথায়? ভোলা? ভোলার মানুষ তো এমন না। মসজিদে কি বক্তব্য দিলেন? কোরআন-হাদিসে কি গণভোটের কথা আছে?” জবাবে খতিব সরকারি নির্দেশনার কথা বললে একরাম বলেন, “আপনি গালিগালাজ শোনার কাজ করছেন। শাহাবুদ্দিন রাজু পুরো থানা চালায়, সেইরকম লোক।”
খতিব আল আমিন বলেন, “আমি আগামী জুমায় মসজিদে যেতে পারব না। জুমার নামাজে গণভোট বিষয়ে মানুষকে সচেতন করায় দুই যুবদল নেতা আমাকে ফোনে হুমকি দিয়েছেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, এমনকি থানায় যেতেও ভয় পাচ্ছি।”
তবে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন রাজু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি তেমন কিছু না। স্থানীয়ভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাজমুল আলম সোহাগ ইদিলপুরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা নেই। আমাদের নারী কর্মীদের প্রতিদিনই হেনস্তা করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বড় অন্তরায়। আমি লিখিতভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা পাইনি।”
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা জানি না। আমার কাছে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেয়নি।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

