আরাকান আর্মি আটকে দিলো ৩টি কার্গো

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

আরাকান আর্মি আটকে দিলো ৩টি কার্গো

দীর্ঘ একমাস পর মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফনদীর মোহনায় বাণিজ্যিক পণ্যবাহী তিনটি কার্গো ট্রলার আটকে দিয়েছে সেদেশের বিদ্রোহী সশস্ত্রগোষ্টী আরাকান আর্মি। একটি পণ্যবাহী কার্গো ট্রলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে নোঙর করলেও বন্দরে আসতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফনদীর মোহনায় সেদেশের পানিসীমায় নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় তল্লাশির নামে দু’টি ট্রলার আটকে রাখে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থলবন্দরে আসার পথে নাফ নদীতে পণ্যবাহী বোট দুটি আটকে দিয়েছিল।

এই তথ্য নিশ্চিত করেন টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, সকাল থেকে মিয়ানমার থেকে পণ্যবাহী তিনটি বড় কার্গো টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নাফনদীর মাঝপথে তল্লাশির কথা বলে আটকে দেয়। এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে গত ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যে মংডু টাউনশিপ আরাকান আর্মি দখলে নেয়। এরপর থেকে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আসেনি। সর্বশেষ মিয়ানমার থেকে ৩ ডিসেম্বর টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ এসেছিল।

স্থলবন্দর ও কয়েকজন ব্যবসায়ীর তথ্য মতে, দীর্ঘ একমাস পর মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্যবাহী তিনটি বাণিজ্যিক কার্গো বোট টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার ১২টার দিকে নাফনদীর মোহনায় সেদেশের পানি সীমানায় নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায়

তল্লাশির নামে ট্রলার দুটি আটকে দেয় আরাকান আর্মি। এই খবরের পর অন্য কার্গো বোটটি সেন্টমার্টিন দ্বীপে নোঙ্গর করে। তবে আরাকান আর্মি তল্লাশি করা বড় দুটি কার্গো বোটে ৩০ হাজারের বেশির বস্তা মালামাল রয়েছে। এর মধ্যে আচার, শুঁটকি, সুপারি, কফিসহ বিভিন্ন

মালামাল রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে শওকত আলী, ওফর ফারুক, মো.আয়াছ, এম এ হাসেম, মো. ওমর ওয়াহিদসহ অনেকের মালামাল রয়েছে।

স্থলবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টউিনশিপ আরাকান আর্মির দখলের নেয়ার পর থেকে স্থলবন্দরের পণ্যবাহী ট্রলার আসা বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফনদীর মোহনায় পণ্যবাহী কার্গো বোটগুলো তল্লাশি নামে আটকে রেখেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, এক মাস পর মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে আমিসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর মালামাল স্থলবন্দরে আসার পথে আটকে দেয় আরাকান আর্মি।

এখনো পণ্যবাহী বোট দুটি তাদের (আরাকান আর্মি) হেফাজতে রয়েছে। সেখানে ৩০ হাজার বস্তা আচার, শুঁটকি, সুপারীসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে।

এমনিতেই কয়েক মাস ধরে স্থলবন্দরের ব্যবসা ধসে পড়েছে। এতে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের উচিত সীমান্ত বাণিজ্য সচল করতে মিয়ানমারের সাথে কথা বলে সমাধানের পথ বের করা। না হলে ব্যবসায়ীরা টেকনাফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, মিয়ানমার থেকে তিনটি পণ্যবাহী কার্গো বোট টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার কথা রয়েছে। কিন্তু নাফনদীর মাঝপথে কার্গো বোটগুলো তল্লাশি চালানোর কথা শুনেছি। এরপর বোটগুলো কোনো খবর পাইনি।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান।

তিনি বলেন,টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে মিয়ানমার পানিসীমানায় পণ্যবাহী কার্গো বোটে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ অবহিত করেনি। তাছাড়া এটি আমাদের পানিসীমানার বাইরে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফনদী মোহনায় পণ্যবাহী কার্গো বোট আটকে দেয় বলে শুনেছি। তবে সেটি তাদের জলসীমানায় বলে জানিয়েছে।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...