নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় গত ১০ দিনব্যাপী কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে মোট ১ হাজার ১০৬ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ৮৫ জনের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা, ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন, ৭ জনকে নিয়মিত মামলায়, ১৩ জনকে পুরোনো মামলায় এবং ২ জনকে আগের পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ১ জনকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার, ২ জনকে সামারি ট্রায়ালে আদালতে সোপর্দ এবং ৪ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।
জেলায় থানাভিত্তিক আটকের তথ্যে জানা যায়, হাতিয়া থানায় সর্বোচ্চ ২৮৯ জন, বেগমগঞ্জে ১৮৩ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১৩১ জন, সুধারাম মডেল থানায় ১২৫ জন, চরজব্বরে ১১০ জন, সোনাইমুড়ীতে ৯২ জন, কবিরহাটে ৬০ জন, চাটখিলে ৫৯ জন এবং সেনবাগ থানায় ৫৭ জনকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, দেশব্যাপী এবং বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে এ বিশেষ অভিযান চলছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাং নির্মূল ও তাদের অপরাধপ্রবণতা রোধে নোয়াখালীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

