আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হলফনামা বিশ্লেষণ

বান্দরবানে সম্পদে এগিয়ে জামায়াত প্রার্থী

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান

বান্দরবানে সম্পদে এগিয়ে জামায়াত প্রার্থী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সর্বশেষ আসন বান্দরবানে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রার্থীদের সম্পদ, আয় ও পেশাগত অবস্থানে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য।

নগদ অর্থের দিক দিয়ে বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী, স্বর্ণ ও ঋণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন, অর্জনকালীন সম্পদের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম এগিয়ে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাংকে অর্থ জমা থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহর বসতভিটা ছাড়া উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পদ নেই।

হলফনামা অনুসারে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী পেশায় ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তার পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। সাচিং প্রুর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১৬ লাখ টাকা, স্ত্রীর সাড়ে ১৩ লাখ টাকা এবং নির্ভরশীলদের ১৩ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে একটি করে প্রাডো, ভলভো ও ট্রাক রয়েছে। নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে দুটি মোটরসাইকেল। নিজের নামে ২৫ ভরি স্বর্ণ এবং স্ত্রীর নামে এক ভরি স্বর্ণ রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে ১৮ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম হলফনামায় নিজেকে এলএলবি পাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয়ের মধ্যে রয়েছে কৃষি খাতে সাড়ে ছয় লাখ টাকা, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট খাতে এক লাখ টাকা, ব্যবসা খাতে চার লাখ টাকা, আইন পেশা খাতে ১০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাতে আড়াই লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ সাড়ে তিন লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে দেড় লাখ টাকা, কোম্পানির শেয়ার সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে সাত লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, একটি এক্স নোহা গাড়ি, ৭০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র।

নিজের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি রয়েছে ৩৫ দশমিক ২৭ একর, দোকান ৫০ হাজার টাকা, বাইশারীতে ভবন সাড়ে ১০ লাখ টাকা ও বান্দরবানে স্ত্রীর নামে ভবন ৩০ লাখ টাকা, নিজের নামে কক্সবাজারে বাড়ি ২৫ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে চট্টগ্রামে বাড়ি ৪৭ লাখ টাকা এবং নিজের নামে বাগান দুই লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নিজের নামে অর্জনকালীন সম্পদের মূল্য ৪২ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৭ লাখ টাকা।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন পেশায় সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সার উল্লেখ করেছেন। তিনি অনার্স পাস। চাকরি খাতে তার বার্ষিক আয় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা, সাংবাদিকতায় দেশের বাইরে থেকে আয় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। নগদ টাকার পরিমাণ সাত লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৮৫ হাজার টাকা। সিটি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। এছাড়া তার একটি মাইক্রোবাস, ১৫ ভরি স্বর্ণ, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, আসবাবপত্র ৯০ হাজার টাকা, পৌনে আট একর জমি, যার মূল্য ২৪ লাখ টাকা। তবে তার ক্রেডিট কার্ড লোন রয়েছে চার লাখ টাকা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন দাওরায়ে হাদিস। ব্যবসা খাতে তার বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা, একটি ট্রাক, ২০ ভরি স্বর্ণ, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, আসবাবপত্র এক লাখ টাকা ও একটি ফ্ল্যাট। অর্থাৎ তার অর্জনকালীন সম্পদ সাড়ে ২৮ লাখ টাকা।

এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তিনি ব্যবসা খাতে আয় করেন সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে বসতভিটার ১০ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছু নেই। তার বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...