চট্টগ্রামে ১৮ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও কিশোর গ্যাং লিডার ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো খুলশী থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের সমালোচনার পর গত ৭ অক্টোবর তাকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর স্পেশাল ব্রাঞ্চে (সিটিএসবি) সংযুক্ত করা হয়। এর একদিন পরই তাকে খুলনায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে আবদুর রহিম বলেন, তাকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সিএমপি সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আবদুর রহিমের বদলির আদেশ জারি করা হয়। পরে আদেশটি সিএমপি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত আইজিপি আওলাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। আদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী, তাকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সিএমপি থেকে ছাড়পত্র নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ১১ অক্টোবর থেকে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অব্যাহতি) বলে গণ্য হবেন।
জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর কিশোর গ্যাং লিডার ও ১৮টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে গিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ও খুলশীর ওসি মুখোমুখি হন। গত মঙ্গলবার রাতে চসিক ভবনে ওয়াকিল হোসেন বগা অবস্থান করছেন এমন খবরে খুলশী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পরে চসিক মেয়র কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মেয়রের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরের দিন একটি অনুষ্ঠানে ওয়াকিল হোসেন বগাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দেন মেয়র।
একইসঙ্গে ওয়াকিল হোসেন বগা চসিক ভবনে যাননি জানিয়ে মেয়র বলেছিলেন, মূলত বগার দুই ভাই ওসির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ নিয়ে মেয়রের কাছে গিয়েছিলেন। সেটি গুরুতর অভিযোগ ছিল। একই বক্তব্যে তিনি খুলশীর ওসিকে নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কিভাবে আবদুর রহিম খুলশীর ওসি হলেন সেই প্রশ্নও তোলেন মেয়র। এর তিন ঘণ্টা পর আবদুর রহিমকে খুলশী থেকে সিটিএসবিতে সংযুক্ত করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

