গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় টানা দ্বিতীয় দিনে আবারো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার সকালে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে মঙ্গলবার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয় । পরপর দুই দিন শ্রমিক অসুস্থের ঘটনায় রহস্য বাড়ছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, বুধবার সকালে উৎপাদন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন নারী শ্রমিক মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে একে একে আরো অনেকের মধ্যে মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবের উপসর্গ দেখা দেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে অসুস্থ শ্রমিকদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরপর দুই দিন একই কারখানার একই ফ্লোরে শ্রমিক অসুস্থের ঘটনায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন জানান, হাসপাতালে আসা শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী। তাদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবের উপসর্গ দেখা গেছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ম্যাস হিস্টেরিয়া (Mass Hysteria) বা ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।
তবে শ্রমিকদের দাবি, সহকর্মী লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকে কর্মপরিবেশ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

