আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শিশু সামিয়ার আর্তনাদ

‘আম্মুগো আন্নে কনে, আরে আন্নের কাছে লইয়া যান গো’

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

‘আম্মুগো আন্নে কনে, আরে আন্নের কাছে লইয়া যান গো’

‘আম্মুগো আন্নে কনে, আরে আন্নের কাছে লইয়া যান’ বলে শিশু সামিয়ার আর্তনাদ সারাদেশের মানুষের মনের হৃদয়ে দাগ কেটেছে। মা হারানো শিশুর ওপর সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে মায়ের কবরের সামনে গিয়ে কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় একটি মেয়ে শিশুকে মায়ের কবরের পাশে কান্না করতে করতে বলছে, আররে (আমারে) কেন আপনার লগে (সঙ্গে) নিয়ে গেলেন না। আম্মু গো আই (আমি) আইছি (আসছি)। আম্মু গো বার (বের) অও (হও)। আরে (আমারে) লই (নিয়ে) যাইতে (যেতে) হারেন না (পারেন না)? আরে কিল্লাই (কেন) থুই (রেখে) গেলেন?’

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ছয় বছর আগে তার মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় শিশুটিকে ও তার সৎ মা আয়েশা আক্তার কে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ‘শিশুটির সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যদি পুনরায় এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শিশু সামিয়া আক্তার বলেন, আমি কাম করি না যে, আম্মু এজন্য আরে মারছে। আমার বাবা সৌদি আরবে থাকেন।

সামিয়ার সৎ মা আয়েশা আক্তার বলেন, এটা আমার ঠিক হয়নি। আমার ভুল হয়েছে। আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। সামিয়াকে আমি আমার সন্তানের মতই আদর করবো।

সামিয়ার প্রতিবেশী একজন জানান, আজ থেকে ছয় বছর আগে বাচ্চাটির মা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। শিশু সায়মার কান্না শুনে কবর থেকে সাপ বের হয়েছিল। সামিয়া সাপের সামনে গিয়ে বলেছিল, আমাকে কামড় দাও আমি মায়ের কাছে চলে যেতে চাই। এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

সায়মার বাবা শোয়াব মিয়া টেলিফোনে বলেন, আমি সৌদি আরবে মাঝরার (কৃষি )কাজ করি। বিষয়টি শুনে আমার খুব খারাপ লাগছে। আমার স্ত্রীকে বলব সামিয়াকে নিজের সন্তানের মত দেখার জন্য।

বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন জানান, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...