লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

বান্দরবানের লামা উপজেলায় আবারো অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের অপরাধে ১৩টি ইটভাটার মালিককে মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন এবং বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেন। অভিযান পরিচালনাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর উদ্দিনসহ স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ১৩টি ইটভাটা হলো— ইউবিএম-১, ইউবিএম-২, বিবিসি, এবিসি-২, এবিসি-৪, এসএসবি, এসবিডাব্লিউ, ৭বিএম, ৫বিএম, কেবিসি, এসএবি ও এমএইচবি।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ৩৯টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় ১টি, গজালিয়া ইউনিয়নে ১টি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৩টি, সরই ইউনিয়নে ১টি এবং ফাইতং ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৩টি। এসব ইটভাটায় কাঁচামাল হিসেবে বছরের পর বছর ধরে আশপাশের পাহাড় কেটে মাটি জোগানো হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বিগত কয়েক বছরে শতাধিক পাহাড় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে এলাকার প্রাকৃতির পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

পাহাড় কাটা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ইতিপূর্বে ৬টি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা, ভাটা মালিকদের কারাদণ্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলেও থামেনি পাহাড় কাটার উৎসব।

অবশেষে সোমবার দিনভর পরিচালিত অভিযানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-এর ১৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৩ ইটভাটার মালিককে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. মঈন উদ্দিন।

এর আগে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা ও পাহাড় কেটে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফাইতং ইউনিয়নের ৫ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে কোনোভাবেই ইটভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ বিধ্বংসী এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...