কক্সবাজারের উখিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পালংখালী ইউনিয়ন শাখার ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, ঝাড়ু মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মামলা ও হামলার শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সাবেক যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান বলেন, সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক ফয়েজুল ইসলাম মেম্বার, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান ও মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দিনসহ কমিটির কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততা ও মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পালংখালী ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, লাখ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় না নিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদ দেওয়ায় এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ বলেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়ে থাকলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন কোথায়? তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতামুক্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা পালংখালী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের পাশাপাশি উখিয়া উপজেলা যুবলীগের কমিটিও বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম কবরিয়া বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
উখিয়া থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক কারবারসহ যেকোনো অপরাধে কারও সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

