কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ওরশে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনায় এক যুবক নিহত এবং আরেকজন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাবুল মিয়া নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুগারচর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল (৪৪) বাদী হয়ে মেঘনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় লক্ষণখোলা গ্রামের নাঈম, বাবুল মিয়া, জাহিদুল, কামাল মিয়া, সজীব, লিল মিয়া ও ফিরোজ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ আলী শাহ ভান্ডারীর ওরশে বাউলগানের অনুষ্ঠানে আসামিরা নারীকে উত্ত্যক্ত করলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর জের ধরে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জিহাদ (২২) ও শাহজালাল ওরফে সাব্বিরসহ (২০) কয়েকজন সিএনজি অটোযোগে মানিকারচরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে লক্ষণখোলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা আসামিরা সিএনজি অটোরিকশার গতি রোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, চেইন ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে জিহাদ ও সাব্বিরকে সিএনজি থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এজাহার অনুযায়ী, নাঈম জিহাদের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। জাহিদুল সাব্বিরের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ছুরিকাঘাত করে এবং সজীব মাথায় আঘাত করলে তিনি মারাত্মক জখম হন। অন্য আসামিরা লোহার রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে দুজনকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির মারা যান। জিহাদ বর্তমানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সব আসামির গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

