কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে প্রতিবেশীর জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ১০ এপ্রিল ভুক্তভোগী জরিনা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে তিনি ডিসির কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের আবেদন জানান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলাভুক্ত জমিতে নতুন ভবন নির্মাণ করে জমির প্রকৃতি ও চরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় আওয়াল মিয়ার ছেলে হান্নান মিয়া জোরপূর্বক জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মাধবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।
গতকাল রোববার সরেজমিনে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সমাধান করার জন্য এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি সরেজমিনে গিয়ে সমাধান করবেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং আদালতের নির্দেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
জমির তফসিল অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উত্তর চান্দলা মৌজার জে.এল. নং ৯, খতিয়ান নং ১/১, সাবেক দাগ নং ৯৪৮ এবং হাল দাগ নং ৩১৫৯-এর ৪৪ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, মৃত আওয়াল মিয়ার সন্তানেরা ১/১ খতিয়ানভুক্ত সরকারিভাবে রেকর্ডকৃত সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা পরিচালনা করে আসছেন। দেওয়ানী মামলা নং-২৯/২০০৩-এর রায়ে আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন মামলা নং-৪১৩০/২০০৮ দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, হাইকোর্ট রুলের শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাভুক্ত সম্পত্তির উপর অবস্থিত বাড়ির দেয়াল, ছাদ এবং সীমানা প্রাচীর সংস্কারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে সেই অনুমতির সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই নতুন নির্মাণকাজ করা যাবে না এবং মামলাভুক্ত জমির প্রকৃতি ও চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে মামলাভুক্ত সম্পত্তির দখল ও বিদ্যমান অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
কিন্তু ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতের এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা বাস্তবে সম্পূর্ণ নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ১টার দিকে অভিযুক্তরা মামলাভুক্ত সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জরিনা বেগম বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় ডিসির নিকট পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের নেতা হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। আমরা আমাদের জায়গায় কাজ করতেছি। তারা মিথ্যা কথা বলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, এই জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত অবমাননার সুযোগ নেই। বিষয়কে নিয়ে এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি ওসির সাথে এই বিষয়ে কথা বলবো।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

