৬০০০ টাকা ঘুসের মামলা, সাক্ষ্যগ্রহণে গেল ১৬ বছর

৬০০০ টাকা ঘুসের মামলা, সাক্ষ্যগ্রহণে গেল ১৬ বছর

ঘুসের ৬,০০০ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা। ওই ঘটনায় মামলা, তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১০ সালে শুরু হয় বিচার কাজ। তবে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতেই পেরিয়ে গেছে ১৬ বছরের বেশি সময়।

এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ৪ অক্টোবর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান। কিন্তু এ কার্যক্রম শেষ হলেও রায় এখনো ঘোষনা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আসামির পরীক্ষা, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার পর মামলাটির নিষ্পত্তি হতে হবে বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদুল করিম আমার দেশকে জানান, সম্প্রতি তিনি মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এরপর রায় ঘোষণার পর্যায়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিক্রয় শাখার তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) । অভিযানে ৬,০০০ টাকা ঘুস গ্রহণের সময় তিনি আটক হন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্যাস কোম্পানির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাইবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আওরঙ্গজেব বাবুলের কাছ থেকে ৪৮টি আবাসিক গ্যাস সংযোগের টেস্ট রিপোর্ট বা কাজ সমাপ্তির প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে ওই ঘুস দাবি ও গ্রহণ করা হয়েছিল। সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২০১০ সালের ২৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু বিচার শুরু হওয়ার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতেই ১৬ বছর ৫ মাস ৯ দিন পেরিয়ে যায় ।

মামলায় মোট সাক্ষী ছিলেন ২০ জন। তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে বিরতি ও নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন