চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় উগ্র ধর্মীয় সংগঠন ইসকন সমর্থকদের হামলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় পলাতক আরো এক আসামি গণেশকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গত শনিবার রাতে নগরীর লালদীঘির জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে নগরের কোতোয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির শরিফ দাশের ছেলে। গণেশ আলিফ হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।
রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোজাফফর হোসেন।
এ মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আলিফ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্যতম আসামি গণেশকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরও ১৬ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর দিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে এবং তাকে কারাগারে নিতে বাধা দেয়।
একপর্যায়ে চিন্ময়ের অনুসারীরা সহিংস হয়ে ওঠে। তারা আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে ইসকনের সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

