কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। শীতের সকালের নরম রোদে হলুদে-সবুজে মোড়া সরিষাক্ষেত যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সমারোহ। মাঠভর্তি সরিষা ফুলের দোলাচালে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর স্বস্তির হাসি। শুধু ফসলের মাঠ নয়, এ যেন কৃষকের স্বপ্নের রাজ্য।
গত মৌসুমে স্থানীয় বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকেরা সরিষা চাষে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার ওপর বিনা মূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও অনুকূল আবহাওয়া-- সব মিলিয়ে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগও লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তিতাস উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। গত বছর সরিষার ভালো বাজারদরের প্রভাবে এ বছর উপজেলার অনেক কৃষক সরিষা চাষে যুক্ত হয়েছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, শুধু ধাননির্ভর কৃষি থেকে বেরিয়ে এসে ভুট্টা, সরিষা, আলু, সূর্যমুখী, পাট, তিলসহ বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতাও কমবে।
উপজেলার জগৎপুর, সাতানী ও মজিদপুর ইউনিয়নসহ কলাকান্দি ও বলরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে সবুজ গাছের গায়ে হলুদের আল্পনার মতো ফুটে আছে সরিষার ফুল। ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর চারপাশ। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এসব এলাকায় বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বারি-২০ এবং বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯ ও বিনা সরিষা-১১ জাতের আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের কৃষক মতিন বলেন, “তিনি এ বছর দুই কানি জমিতে বারি-১৪ ও বিনা-৯/১০ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি কানি জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘সরিষার বাজারচাহিদা সব সময় ভালো থাকে। গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। গত বছরের মতো এবারও লাভবান হতে পারব।”
বলরামপুর গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, “সরিষার চাহিদা ভালো এবং চাষে ক্ষতির ঝুঁকি কম। তাই প্রতি মৌসুমেই সরিষা চাষ করি। এবারও দাম ভালো পাওয়ার আশা করছি। দাম ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হবেন।”
কলাকান্দি গ্রামের কৃষক মঙ্গল মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বারি-১৪ জাতের বীজ সংগ্রহ করে তিনি দুই একর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তিনি আরো জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছ ও ফুল দেখে মনে হচ্ছে দ্বিগুণ ফলন হবে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমানো, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সরিষা উৎপাদন হবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

