অগ্রণী ব্যাংকে গ্রাহকের টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা উধাও, আতঙ্কে গ্রাহক

অগ্রণী ব্যাংকে গ্রাহকের টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা উধাও, আতঙ্কে গ্রাহক

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় গ্রাহকদের আমানত নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকটির ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ গত দুই দিন ধরে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ব্যাংকটিতে ভিড় করছেন শত শত গ্রাহক। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক নারী গ্রাহক তার এফডিআরের খোঁজ নিতে ব্যাংকে গেলে কথিত জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। পরে একে একে আরও কয়েকজন গ্রাহক তাদের আমানত নিয়ে সমস্যার কথা জানান। এখন পর্যন্ত ১৪টি হিসাবে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ব্যাংকটিতে ছুটে আসেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।

অভিযোগকারী গ্রাহকদের দাবি, তারা ব্যাংকে এসে টাকা জমা দেওয়ার পর ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ জমার রসিদে নিজে স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে তাদের বিদায় করতেন। তবে পরবর্তী সময়ে যাচাই করে দেখা যায়, এসব টাকা ব্যাংকের মূল সিস্টেমে জমা হয়নি।

নুরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক জানান, তার শ্যালক মো. বাহাদুর আইভরি কোস্টে প্রবাসী। তার হিসাবে ৮৫ লাখ টাকা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। ব্যাংকে হিসাব খোলার পর তার শ্যালক চেক বইও নেননি। কিন্তু বৃহস্পতিবার হিসাবের খোঁজ নিতে এসে তারা জানতে পারেন, হিসাবে কোনো টাকা নেই।

নুরুল ইসলামের অভিযোগ, ব্যাংকে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর পরিবর্তন করে ওই হিসাবের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ তার নিজের নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা তুলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক গ্রাহক মনিকা বেগম বলেন, ‘আমার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় এফডিআর হিসেবে এই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন ব্যাংকে এসে শুনছি, হিসাবে কোনো টাকা জমা নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জালিয়াতি করে সব টাকা সরিয়ে ফেলেছেন বলে জানতে পারছি।’

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসার জন্য রওনা হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত টাকা লোপাট হয়েছে বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা বলা যাবে না। আমরা গ্রাহকদের তাদের আমানত ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করছি।’

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন