নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বরাব এলাকায় প্রতি বছর বসে কুঞ্জমেলা। আর একে ঘিরে বসে ‘মাছের মেলা। দুইশ আটানব্বই বছর ধরে হয়ে আসা মেলাটি মাছের মেলা হলেও এখন রূপ নিয়েছে জামাই মেলায়।
এই মেলা থেকে আশপাশের গ্রামের জামাইরা সবচেয়ে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। এ কারণে মেলার সময় আশপাশের গ্রামগুলোতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।মূলত এটা মাছের মেলা হলেও কালের পরিবর্তনে জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত।
প্রতি বছরের পৌষ মাসের দ্বিতীয় সোমবার পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের বরাবো এরাকায় শ্রী শ্রী কানাইরাল জিউর মন্দিরে দেড় মাসব্যাপী রাধা কৃষ্ণের কীর্তন হয়ে থাকে। আর কীর্তন শেষে রাধা কৃষ্ণের যুগল বন্ধি উপলক্ষে মেলাটি বসে। মেলার দ্বিতীয় দিন কাক ডাকা ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে মাছ কেনাবেচার ধুম। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মাছ বিক্রেতা বড় বড় মাছ নিয়ে বসেন মেলায়। এ নিয়ে মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়, কে কতো বড় মাছ মেলায় আনতে পারেন।
অন্যদিকে স্থানীয় জামাই-শ্বশুরদের মধ্যেও বড় মাছ কেনার নিরব প্রতিযোগিতা চলে। মেলায় নিজ এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তবৃন্দরা ছুটে আসেন মাছ কিনতে, আবার কেউ আসেন মাছ দেখতে। মেলায় সামুদ্রিক চিতল, বাঘা, আইড়, বোয়াল, রুই, কাতল, কালী বাউশ, সাহস, গলদা চিংড়ি ও রূপচাঁদাসহ হরেক রকম মাছ উঠে। মেরায় প্রতি বছরই বিক্রি হয় কোটি টাকার মাছ। মূলত এটা জামাই মেলা হলেও সবাই এটাকে মাছের মেলা বলে থাকে।
সরেজমিনে মেলায় দেখা গেছে, মাছ বিক্রেতারা নানা অঙ্গভঙ্গি করে সুর ধরে ডেকে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। কেউ কেউ বড় আকৃতির মাছ উপরে তুলে ধরে ক্রেতাদের ডাকছেন। এটি এক সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মেলা হলেও সময়ের সাথে সাথে এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নেয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুশ আটানব্বই বছর ধরে আশপাশের গ্রামের জামাইরা সবচেয়ে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। এ কারণে মেলার সময় আশপাশের গ্রামগুলোর ঘরে ঘরে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। মূলত এটা মাছের মেলা হলেও সবাই এটাকে জামাই মেলাই বলে। এ কারনে মেলার সময় আশপাশের গ্রামে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।
আয়োজকদের মধ্যে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মধুসুদন দাস জানান, স্থানীয় লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু লোকজন আসেন। প্রতি বছর এই এলাকার বরাবো শ্রী শ্রী কানাইলাল জিউর মন্দিরে মাসব্যাপী লীলা কীর্থন হয়ে থাকে। এই কীর্তনের যুগলমিলন হয় পৌষ মাসের দ্বিতীয় সোমবার আর তাই এই সোমবারেই মাছের মেলাটি হয়ে থাকে। আর মেলাটি তিনদিন স্থায়ী হয়। মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি, বস্ত্র, হস্ত ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যেরও আমদানি হয়।
তিনি আরো জানান, শুরুতে মেলাটি অনুষ্ঠিত হতো ক্ষুদ্র পরিসরে। এখন এটি উৎসবে পরিনত হয়েছে। এটি এক সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মেলা হলেও সময়ের ব্যবধানে এ মেলাটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এখানে শুধু মাছ নয়, এ মেলাকে কেন্দ্র করে বস্ত্র, হস্ত, চারু- কারু, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

