ভিয়েতনাম যাওয়া হলো না আশিক ভূঁইয়ার

ওরা আমার ছেলেটাকে এভাবে মারতে পারল?

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী

ওরা আমার ছেলেটাকে এভাবে মারতে পারল?
নিহত আশিক ভূঁইয়া। ছবি: আমার দেশ

‘আমার একমাত্র ছেলে আশিক ভূঁইয়া, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সে ভালো একটি দেশে যাবে। কাজ করে ভালো মাইনে পেয়ে বাবা-মায়ের জন্য বড় একটি বাড়ি করবে। বোনকে ভালো লেখাপড়া করাবে। সে বিদেশে গিয়ে যাতে মোটা অঙ্কের মাইনে পায়, তার জন্য কাজও শিখেছে। সবকিছু ঠিকঠাক, পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান টিকিট ও কেনাকাটা। আগামী ২৫ মে তার ভিয়েতনামে যাওয়ার ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রতিবেশী সাগর ও তার ভাই সোহাগ তার স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি।’

ছেলে আশিক ভূঁইয়ার মৃত্যুতে কান্নারত অবস্থায় কথাগুলো বলেন, নিহত আশিক ভূঁইয়ার মা খুকুমনি।

বিজ্ঞাপন

নিহত যুবক আশিক ভূঁইয়া (২০) পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে।

বকুল ভূঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার গাজা সেবনকে কেন্দ্র করে পারুলিয়া গ্রামের জুয়েলের ছেলে জাকারিয়ার সঙ্গে মাঝেরচর গ্রামের বকুল ভূঁইয়া ও রুহুল আমিনের কথা কাটাকাটি হয়। এ থেকে তাদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। তাদের দুজনের বিবাদের বিষয়টি গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় মীমাংসা হওয়ার কথা। সেই মোতাবেক তাদের বাড়ির নিকটবর্তী ফকিরবাড়ির পাশে খোকা মার্কেটে এক সালিশ বসে। সালিশে মুরব্বিদের জন্য অপেক্ষা করার সময় সাগর ও তার ছোট ভাই সোহাগ এবং তাদের বাবা ইউনুছ আলী ছুরি দিয়ে আশিক ভুঁইয়াকে একাধিকবার আঘাত করে। তাদের ফেরাতে এসে বকুল ভুঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন, মন্নান ফকিরের ছেলে ইলিয়াছ আহত হন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী রোমান ভুঁইয়া।

এ সময় আশপাশের লোকজন দৌড়ে এলে সাগর, সোহাগ, তাদের বাবা ইউনুছ আলীসহ সবাই পালিয়ে যাযন। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে আশিক ভূঁইয়া, রুহুল আমিন ভুঁইয়া ও ইলিয়াস ফকিরকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে যাযন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিক ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং রুহুল আমিন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। এছাড়া ইলিয়াসের হাতে আঘাত পাওয়ায় তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে আশিক ভূঁইয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

শনিবার সকালে আশিক ভূঁইয়ার লাশ বাড়িতে এলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন জানান, মাঝেরচর গ্রামে আশিক ভূঁইয়া নামে এক যুবককে গতকাল বিকেলে প্রতিবেশী সাগর ও সোহাগ একাধিক ছুরিকাঘাত করায় রাত ৩টায় তিনি মারা যান। তাকে ফেরাতে গেলে আরও দুজন আহত হন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আসার পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে নরসিংদীর ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ কাজ করছে। আশা করা যায়, দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন