নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ, হাসি ফুটছে চাষির মুখে

শরীফ ইকবাল রাসেল, নরসিংদী

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ, হাসি ফুটছে চাষির মুখে
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে চাষ হচ্ছে চিনাবাদাম। ছবি: আমার দেশ

চিনাবাদাম একদিকে যেমন সুস্বাদু, একই সঙ্গে এটি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর একটি খাদ্য। দক্ষিণ আমেরিকায় এর উৎপত্তি হলেও এটি এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কোথাও ঘুরতে গিয়ে বাদাম না থাকলে যেন বন্ধুদের আড্ডা অপূর্ণ থাকে। আর এসব কারণে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে নরসিংদীতে উৎপাদিত চিনাবাদামের।

কৃষিবিদরা জানান, বিভিন্ন জাতের বাদামের মধ্যে চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদাম উল্লেখযোগ্য। বাদাম ভেজে নিলে এর ক্যারোটিনের মান কমে গেলেও বাকি সব উপাদান প্রায় সমানই থাকে। বাদামের পুষ্টিগুণের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ভিটামিন এ, বি ও সি। কাঁচা বাদামে আরো রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ওমেগা।

বিজ্ঞাপন

চিনাবাদামকে পুষ্টির একটি পাওয়ার হাউস বলা হয়ে থাকে। এটি হৃৎপিণ্ড সুস্থ্য রাখার পাশাপাশি প্রোটিনের উৎস এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বাদাম খেলে প্রচুর ক্যালোরি ও পুষ্টি উপাদান শরীরকে শক্তি জোগায়। তাই প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যকর। চিনাবাদাম শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীদের জন্য একটি আদর্শ পুষ্টিখাদ্য।

কৃষকদের মতে, স্বল্প খরচ, অধিক ফলন এবং বাজারে ন্যায্যদাম পাওয়ার ফলে নরসিংদীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ। এতে কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাদামচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাদাম চাষ বরাবরই লাভজনক। এক বিঘা জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে। এছাড়া বাদাম চাষ শেষে একই জমিতে ভিন্ন জাতের ফসল ফলানো যায়।

আহাম্মদ আলী নামে এক কৃষক জানান, এ বছর তারা তিনজন মিলে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বাদাম বিক্রি করতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন। বাদাম সংগ্রহ, শুকানো ও বাছাইসহ বিভিন্ন ধাপে স্থানীয় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক জানিয়েছেন, যেসব জমিতে অন্য ফসল হয় না, সেসব পতিত জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল চানপুর, মাঝেরচর, মৌহিনিপুর, সদাগরকান্দি, সদর উপজেলার চরদিঘলদী ও আলোকবালী এবং বেলাবো উপজেলার চরবেলাবো এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে।

আগের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে চিনাবাদামের আবাদ। বাদাম চাষের পরিধি আরো বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

জেলায় চলতি মৌসুমে ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...